October 29, 2020, 2:27 am

নওগাঁয় সওজের জমিতে আ’লীগ নেতার ভবন

নওগাঁর মান্দা উপজেলার ফেরিঘাটে সড়ক ও জনপথের (সওজ) প্রায় অর্ধকোটি টাকা মূল্যে ৫শতক জায়গা জবর দখল করে দ্বিতল মার্কেট ভবন নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে, স্থানীয় উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ্ব মোল্লা এমদাদুল হক। আওয়ামী লীগ অফিসের নাম করে বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রীর ছবি টানিয়ে ওই ভবনটি টিকে রাখার তৎপরতাও ছিল চোখে পড়ার মত। এদিকে সম্প্রতি সওজের উচ্ছেদ অভিযানে ওই এলাকায় অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হলেও ওই ভবনটি সম্পন্ন রুপে গুড়িয়ে না দেয়ায় এলাকার মানুষের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। তাদের মনে এখন একটি প্রশ্নই ‘কি আছে ওই ভবনে?’ তবে ভবন মালিক নিজেই ভবনটি অপসারনের আবেদনের প্রেক্ষিতে ওইদিনের উচ্ছেদ অভিযান মুলতবি করা হয়েছে বলে সওজের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন। এদিকে উচ্ছেদ অভিযানের পর ১৯ দিন অতিবাহিত হলেও ওই ভবন এখন পর্যন্ত অপসারন করা হয়নি।

জানা গেছে, মান্দা উপজেলার ফেরিঘাট এলাকায় রাস্তার পাশে গত ২০০৮ সালে প্রায় ৫ শতক সওজের জায়গা দখল করে একতালা ভবন নির্মাণ করেন মোল্লা এমদাদুল হক। তার দাবি সেই থেকে ভবনটি আওয়ামী লীগ অফিস হিসাবে ব্যবহার করে আসা হচ্ছে।

এরপর গত ২০১৬ সালের দিকে ভবনটি পরিধি বৃদ্ধি করে দ্বিতীয় তলা সম্পন্ন করা হয়। ভবনটি টিকিয়ে রাখতে ভবনের সামনের অংশে স্টাইলসে আঁকা জাতীর জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবর রহমান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি টাঙ্গানো হয়। ভবনের একটি অংশে আ’লীগের পার্টি অফিস করা হয় এবং বাঁকীগুলো ভাড়া দেয়া হয়। ভবনের সামনে থেকে পাকা রাস্তা পর্যন্ত বাঁশের খুঁটি পুতে বেড়া দেয়া হয়।
এদিকে, মান্দা উপজেলার নওগাঁ-রাজশাহী আঞ্চলিক মহাসড়ক প্রসস্থকরণের জন্য গত ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর। উপজেলার ফেরীঘাটে সওজের জায়গায় গড়ে তোলা স্থাপনাগুলো উচ্ছেদ করা হয়। কিন্তু ফেরীঘাটে নওগাঁ-রাজশাহী আঞ্চলিক মহাসড়কের দক্ষিণ পার্শে অবস্থিত আওয়ামীলীগের প্রভাবশালী থানা আওয়ামীলীগের সভাপতি আলহাজ্ব মোল্লা এমদাদুল হক এর ওই ভবন সওজের জায়গায় হলেও সামনের অংশে সামান্য ভাঙা হয়। এ নিয়ে জনমনে বিভিন্ন প্রশ্নের সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে ভবনটির মালিক আবারও ভবনের ভাঙা অংশগুলো সংস্কার করে দৃষ্টিনন্দন করা হয়।
এ বছর আবারও নওগাঁ-রাজশাহী আঞ্চলিক মহাসড়কের রাজশাহী-নওহাটা-চৌমাশিয়া সড়কের ৩২তম কিলোমিটার থেকে ৬৬তম কিলোমিটার পর্যন্ত সড়কের উভয় পাশে উচ্ছেদের নোটিশ দেয় নওগাঁ সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর। উচ্ছেদের দ্বিতীয় দিন গত ৯সেপ্টেম্বর বিকেলে সওজ ফেরিঘাটে অভিযান পরিচালনা করে। সওজ থেকে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালান করা হলেও অনেকেই নিজ থেকে তাদের স্থাপনা সরিয়ে নেয়। স্থানীয় জনগনের মনে সন্দেহ ছিল এবারও হয়ত ওই ভবনটি ভাঙা হবেনা। তাদের ধারনা ঠিক হয়েছে। বিগত বছরে যে পরিমাণ ওই ভবনটি সামনের অংশে ভাঙা হয়েছিল এবার সে পরিমাণই ভাঙা হয়েছে। ভবনটি সম্পন্ন ভেঙে গুড়িয়ে না দিয়ে সওজ চলে যায়। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। সওজের জায়গায় গড়ে তোলা ওই ভবনটি সম্পূর্ন গুড়িয়ে দেয়ার দাবী স্থানীয়দের। কয়াপাড়া গ্রামের খলিলুর রহমান বিশ্বাস বলেন, ফেরিঘাটে গবীর মানুষরা রাস্তার পাশে দোকান দিয়ে জীবিকা নির্বাহ করে আসছিল। তাদের সব দোকানপাট ভেঙে গুড়িয়ে দেয়া হয়েছে। কিন্তু ওই একটি ভবন (আলহাজ্ব মোল্লা এমদাদুল হক) ভাঙা হয়নি। গত দুইবছর আগেও ওই ভবনটি ভাঙা হয়নি। এবারও ভবনের সামনের অংশ নামমাত্র ভেঙে বাঁকীটা রেখে সওজ কাজ শেষ করে চলে যায়। সওজ ইচ্ছে করেই এমনটা করছেন বলে তিনি অভিযোগ করেন। আমাদের মনে সন্দেহ ছিল এবারও হয়ত ওই ভবনটি ভাঙা  হবেনা। ধারনা সঠিক হয়েছে।
মান্দা থানা আওয়ামীলীগের সভাপতি আলহাজ্ব মোল্লা এমদাদুল হক বলেন, সরকারি ওই জায়গাটি আমি ৯৯ বছরের জন্য ইজারা (লীজ) নিয়েছি। ইজারা নেওয়া জায়গায় কোন রকম ভবন নির্মাণ করা যাবে না। এটা আমার জানা ছিল না। নিজেরাই ভবনটি অপসারন করে নেওয়ার জন্য সওজের কাছে আবেদন করেছিলাম। সওজ থেকে একটি স্ট্যাম্প (দলিল) নিয়ে আসতে বলা হয়। দলিল নিয়ে আসার আগেই ভবনটির সামনের অংশ ভেঙে দেয়া হয়। গত দুই বছর আগেও একবার ভাঙা হয়েছিল।
তিনি আরো বলেন, ওখানে আগেও একটি আ’লীগের দলীয় অফিস ছিল। পরবর্তীতে সেখানে দুইতলা একটি ভবন করার পর নিচের অংশের পেছনের দিকে পার্টি অফিস করা হয়। আর সামনে দিকে দোকান ঘরের জন্য ভাড়া দেয়া। এছাড়া ভবনের উপরের অংশেও ভাড়া দেয়া ছিল।

নওগাঁ সড়ক ও জনপদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ হামিদুল হক বলেন, ওই এলাকায় যে পরিমান ভাঙার কথা ছিল তা সময়ের অভাবে সম্ভব হয়নি। প্রায় ৬ থেকে ৭ শতক জায়গার উপর ওই ভবনটি সম্পূর্ন সওজের জমিতে পড়েছে। ভবনের মালিক নিজ থেকে ভেঙে নিতে চেয়েছেন। যদি তারা ওই ভবনটি ভেঙে না নেয়, আগামী কয়েক দিন আবারও সওজ ঢাকা জোনের উপ-সচিব মাহবুবুর রহমান ফারুকী ভাঙার জন্য একটা উদ্যোগ নিবেন। তখন ওই ভবন ভেঙ্গে গুড়িয়ে দেয়া হবে। এরআগেও তারা ভবনটি ভেঙে নিতে চেয়েছিলেন। যদি ভবন মালিক নিজ থেকে ওই ভবন অপসারণ করে না নেয় সেক্ষেত্রে তাকে জরিমানা করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     এই বিভাগের আরও খবর