October 28, 2020, 4:33 pm

স্থলবন্দর ভোমরায় হন্ডি, স্বর্ণ ও মাদক ব্যবসায়ী লুঙ্গি বাবু এখন গড ফাদার

আবুল কালাম আজাদ সাতক্ষীরা অফিস: হন্ডি, স্বর্ণ পাচার ও মাদক ব্যবসায়ীর অভাব নেই স্থলবন্দর ভোমরায়। এখানে বহাল তবিয়তে এসবের কারবার চালিয়ে যাচ্ছেন ইলিশ জাহাঙ্গীরের মতো লুঙ্গি বাবুও। এই লুঙ্গি বাবুর স্বর্ণ সরবরাহ করেন সাতক্ষীরা শহরের দে ব্রাদার্স জুয়েলার্সের মালিক আশুতোষ দে সহ আরও কয়েকজন স্বর্ণ ব্যবসায়ী। তার হন্ডির টাকা লেনদেন হয় আধুনিক জুয়েলার্সের মালিক সুভাষ রায় ও রয়েল স্যনেটারীর মালিক নজরুল ইসলামের সাথে। আর সীমান্তের ওপারের ঘোজাডাঙ্গার ছোট ভোলা ও সমীর চোরা পথে পাঠায় তার মাদক ব্যবসার যাবতীয় নেশার সামগ্রী। লুঙ্গি বাবুর অপর নাম ছোট বাবু। লক্ষীদাঁড়ীর মৃত আহম্মদ আলী গাজীর ছোট ছেলে লুঙ্গি বাবু। প্রাথমিক স্কুলও পাশ করেননি। বাবার ৩ বিঘে ১০ কাঠা জমির জমি পাঁচ ভাই বোনের মধ্যে বিলি বন্টন হয়ে নিজের ভাগে পান সামান্যই জমি। দিন চলে না তাই ১৯৯২ সালে নেমে পড়েন চোরাচালানির কাজে। সীমান্তের ওপারে ঘোজাডাঙ্গার মুদি ব্যবসায়ী আশরাফ আলীর কাছ থেকে নিয়ে আসতো লবণ, পেঁয়াজ, রসুন ও চিনি। দু’বছর পর তার কাছ থেকে আনা শুরু করেন চাল। ব্যবসা করতে করতে প্রায় ৫ লাখ টাকা মেরে দেন। ১৯৯৪ সালে তৎকালীন বিডিআরের কমান্ডিং অফিসার তার বাড়ি রেড করে ১০ বস্তা লবণ উদ্ধার করেন এবং লুঙ্গি বাবু ধরা পড়েন। এতে মামলা হয়। সপ্তাহ খানেক জেল হাজত খেটে জামিনে মুক্তি পেয়ে এবার শুরু করেন গরুর ব্যবসা। সীমান্তের ওপারের নেকুদার আব্দুর রাজ্জাকের সাথে ছিল এই গরুর ব্যবসা। রাজ্জাক গরু দিতো আর লুঙ্গি বাবু গরু তুলতেন ভোমরার খাটালে। গরুর ব্যবসা বন্ধ হয়ে গেলে রাজ্জাকের আড়াই লাখ টাকা মেরে দেয়। গরুর ব্যবসা বন্ধ হয়ে গেলে শুরু করেন টিএফ বা ফোন-ম্যাসেজের। স্থানীয় ভাবে এটি হন্ডি ব্যবসার সাংকেতিক নাম। টিএফ ব্যবসা শুরু করেন ঘোজাডাঙ্গার গাজী এন্টারপ্রাইজের মালিক আশরাফ আলী নুনুর সাথে। ২০০২ সালে নুনুর ৮০ লাখ টাকা মেরে নিয়ে পালিয়ে যান দেবহাটা উপজেলার নওয়াপাড়া গ্রামে। পালিয়ে থাকেন সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল জলিলের ভাইপো মুকুলের বাড়িতে। এই মুকুল লুঙ্গি বাবুর বড় ভগ্নিপতি। ২০০৩ সালে লুঙ্গি বাবু ফিরে আসে নিজ এলাকায়। বাড়ি ফিরে তার বড় শ্যালক রেজাউলের সাথে আবার গরুর ব্যবসা শুরু করেন। রেজাউল একটি হত্যা মামলার আসামী হয়ে জেলে গেলে তার ছোট শ্যালক মিরাজের সাথে গরুর ব্যবসা করতে থাকেন। পাশাপাশি আবার শুরু করেন টিএফ বা হন্ডি ব্যবসা, সাথে মাদক দ্রব্য। কিনে নেন গোবিন্দ, অমল, পরিতোষ, রবিন ও পলাশ কাপালির জমি। ২৭ লাখ টাকা মূল্য নির্ধারণ করে ১৫ লাখ টাকা দিয়ে জমি লিখে নেন। বাকি টাকা দিয়ে তাদের ভয় ভীতি দেখিয়ে ভারতে পাঠিয়ে দেয়। এই জায়গায় লুঙ্গি বাবু বিশাল দোতলা মার্কেট নির্মাণ করেছেন। এলাকায় এ মার্কেটটি বাবু মার্কেট নামে পরিচিত। লুঙ্গি বাবু পৈত্রিক ভিটায় তৈরি করেছেন আরো একটি বিশালাকায় দোতলা বাড়ি। বাড়ির প্রতিটি কক্ষে আবাসিক হোটেলের মতো দেয়া হয়েছে রুম নম্বর। এখানে চলে দেহ ব্যবসা ও নেশার আসর। এই বাড়িতে ওঠে ঢাকা, চিটাগাং, ফেনি, কুষ্টিয়া, রংপুর সহ বিভিন্ন স্থানের ফল ব্যবসায়ীদের স্কট। তাদের জন্য করা হয় রাত্রিযাপন ও বিনোদনের ব্যবস্থা। এদের জন্য আনা হয় পাটকেলঘাটা, মীর্জাপুর, সাতক্ষীরা, নলতা, কালিগঞ্জ সহ বিভিন্ন এলাকা থেকে আনা হয় ‘গণবধূ’। ‘গণবধূ’র পাশাপাশি সরবরাহ করা হয় মদ ও মাদক দ্রব্য। বাবু মার্কেটের উত্তর পাশে বসবাস করেন সাঈদ। তার বিবাহিত মেয়ে বিলকিস নাহারের সাথে রয়েছে পাশে লুঙ্গি বাবুর অবৈধ সম্পর্ক। এই বিলকিসই বোরখা পরে সাতক্ষীরা শহরের দে ব্রাদার্স জুয়েলার্স ও অন্যান্য স্বর্ণ ব্যবসায়ীর কাছ থেকে স্বণের বার বয়ে নিয়ে যায় ভোমরায়। আবার হন্ডির টাকা শহর থেকে ভোমরায়, ভোমরা থেকে শহরে আনা নেয়া করে থাকে। দেয়া নেয়া করে আধুনিক জুয়েলার্স ও রযেল স্যানেটারীতে। এই কারণে বিলকিস নাহারকে কিনে দেয়া হয়েছে পদ্ম-শাখরা রোডে ৬ শতক জমি। এভাবে লুঙ্গি বাবু ভোমরার ‘গড ফাদার’ বনে গেছে। বাবু মার্কেটের দোতলায় স্থানীয় যুব লীগের ছেলেরা ওঠাবসা করায় চোরাচালানি ব্যবসায় তার সাহস আরো বেড়ে গেছে। এব্যাপারে লুঙ্গি বাবুর সাথে মোবাইল ফোনে কথা বললে তিনি বলেন, আমি কোন হন্ডি, স্বর্ণ ও মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত নই। আমি ঘের ব্যবসায়ী। ১০/১২ বিঘের ঘের আছে আর ৫/৭ বিঘে জমি চাষ করি। বিলকিস নাহারের সাথে কি সম্পর্ক জানতে চাইলে বলেন, আসেন সামনাসামনি কথা বলি। পরে তিনি ফোন দিয়ে জালাল মেম্বারের সাথে কথা বলার জন্য অনুরোধ করেন। জালাল মেম্বার বলেন, ছোট বাবু বিষয়গুলো সত্যি নয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     এই বিভাগের আরও খবর