October 21, 2020, 2:28 am

ধুলিহর কিশোরী কর্নারে মাসিক স্বাস্থ্য বিষয়ক আলোচনা সভা

নিজস্ব প্রতিনিধি:: ঋতু চক্র অভিশাপ নয় অশুদ্ধ নয় জেনো সুস্থ নারীর জীবনে ঋতুকে স্বাভাবিক বলে মেনে চলা” শ্লোগানে কিশোরী কর্নার স্থাপন। ভিবিডি সাতক্ষীরার উদ্যোগে সাতক্ষীরা সদরের, ধুলিহার পল্লী উন্নয়ন উচ্চ বিদ্যালয়ে একটি কিশোরী কর্নার স্থাপন করে ভিবিডি সাতক্ষীরা। কিশোরী কর্নার এর উদ্দেশ্য বিদ্যালয়ে আসা কিশোরীদের হঠাৎ প্রয়োজনে স্যানিটারি ন্যাপকিন সহজলভ্য করা। এবং স্বল্পমূল্যে সবার হাতে স্যানিটারি ন্যাপকিন পৌঁছে দেওয়া। এখানে কিশোরীরা তাদের মাসিক কালীন সময়ে মাত্র ৪ টাকা মূল্যে প্রতিটি সেনেটারী প্রোডাক্ট পাবে এবং ৩০ টাকায় এক প্যাকেট সেনেটারী প্রোডাক্ট পাবে ‌। এ লক্ষ্যে আজ বেলা সাড়ে ১১ টায় পল্লী উন্নয়ন উচ্চ বিদ্যালয় শিক্ষক-শিক্ষিকা ও ছাত্রীদের সঙ্গে মাসিক স্বাস্থ্য বিষয়ক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন, ভিবিডি সাতক্ষীরার সভাপতি শুব্রত হালদার । আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন, পল্লী উন্নয়ন উচ্চ বিদ্যালয়ের সহ.প্রধান শিক্ষক ঠাকুর দাশ বিশ্বাস। বক্তব্য রাখেন, শারীরিক শিক্ষক পলাশ কুমার সরকার, সহকারী শিহ্মক জাহানারা পারভীন, ভিবিডির মানবসম্পদ বিষয়ক সম্পাদক আফসানা মিমি,ভিবিডির সদস্য জাহিদুর রহমান বাঁধন, প্রমুখ। আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন , আমাদের দেশের প্রায় সাড়ে ৪ কোটি কিশোরী ও নারী মাসিকের সময় এখনো কাপড় ব্যবহার করে। তাদের অনেকে একই কাপড় বারবার ব্যবহার করে। আবার নারী ও কিশোরীদের একটি বড় অংশ অপরিষ্কার কাপড় ব্যবহার করে। কিশোরীদের মাত্র ১০ শতাংশ এবং বয়স্ক নারীদের ২৫ শতাংশ মাসিকের সময় স্যানিটারি ন্যাপকিন বা স্বাস্থ্যসম্মত প্যাড ব্যবহার করে। মাসিকের সময় দেশের অনেক কিশোরী স্কুলে যায় না, এমনকি পরীক্ষায়ও অংশ নেয় না। কারণ, তারা অসচেতন এবং দেশের বেশির ভাগ স্কুল-কলেজের টয়লেট মাসিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনার উপযোগী নয়। টয়লেটগুলোতে কাপড় পরিবর্তন করার সুযোগ থাকে না এবং ব্যবহৃত ন্যাপকিন ফেলারও কোনো ব্যবস্থা থাকে না। অথচ স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতি তিন থেকে চার ঘণ্টা অন্তর ন্যাপকিন পাল্টানো দরকার। তা না হলে ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণের ঝুঁকি থাকে এবং নানা রোগ দেখা দিতে পারে। বয়ঃসন্ধিকালে মেয়েদের মাসিক হওয়াটা স্বাভাবিক শারীরবৃত্তীয় একটি প্রক্রিয়া। কিন্তু এক গবেষণায় দেখা গেছে, আমাদের দেশের শতকরা ৭০% মেয়েই প্রথম মাসিকের আগে মাসিক সম্পর্কে জানে না। এ কারণে অনেক মেয়েকেই বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়তে হয়। এ ক্ষেত্রে পরিবারের, বিশেষ করে মায়ের দায়িত্ব হচ্ছে তাঁর কিশোরী মেয়েকে এ সম্পর্কে জানানো। একই সঙ্গে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো যাতে এ ব্যাপারে সচেতন ও সংবেদনশীল ভূমিকা পালন করে, সেই পরিস্থিতি তৈরি করতে হবে। মাসিক নিয়ে যেসব কুসংস্কার আছে, সেগুলো দূর করে সবার মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টির উদ্যোগ নিতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     এই বিভাগের আরও খবর