October 30, 2020, 4:11 pm

হেফাজত আমির আল্লামা শফী আর নেই

নিজস্ব প্রতিবেদক:: দেশের প্রবীণ আলেম ও হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা শাহ আহমদ শফী ইন্তেকাল করেছেন। (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজেউন)

শুক্রবার বিকালে শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় আনা হয়। সন্ধ্যায় গেন্ডারিয়া আসগর আলী হাসপাতালে ভর্তি করা হলে ৬টা ২০ মিনিটে সেখানেই তার মৃত্যু হয়। তার বয়স হয়েছিল ১০৩ বছর।

আল্লামা আহমদ শফীর ছেলে মাওলানা আনাস মাদানী এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তার মৃত্যুতে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ বিশিষ্টজনেরা শোক জানিয়েছেন। তার মৃত্যুর খবরে সারাদেশে আলেম-উলামাদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

আল্লামা আহমদ শফীর নামাজে জানাজা আগামীকাল শনিবার দুপুর ২টায় হাটহাজারী মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হবে। পরে তাকে মাদ্রাসার কবরস্থানে চিরনিদ্রায় সমাহিত করা হবে বলে জানিয়েছেন আনাস মাদানী।

আল্লামা শাহ আহমদ শফী দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত নানা সমস্যায় ভুগছিলেন। অবস্থার অবনতি হওয়ার পর বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে হাটহাজারী মাদ্রাসা থেকে অ্যাম্বুলেন্সে করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নেয়া হয় তাকে। পরে হাসপাতালের তৃতীয় তলার আইসিইউর ৮ নম্বর বেডে ভর্তি করা হয় হেফাজতের আমিরকে।

গতকাল রাতে ছাত্র বিক্ষোভের মুখে চট্টগ্রামের হাটহাজারী মাদ্রাসার মহাপরিচালকের পদ থেকে স্বেচ্ছায় সরে দাঁড়ান আল্লামা শফী। রাতে মাদ্রাসার মজলিসে শূরার বৈঠকে আল্লামা শফী তার এ সিদ্ধান্তের কথা জানান। তবে তাকে সদরুল মুহতামিম বা উপদেষ্টা হিসেবে রাখা হয়।

আল্লামা শাহ আহমদ শফী হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা ও আমির ছিলেন। তিনি একইসঙ্গে বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশের সভাপতি এবং আল হাইয়াতুল উলয়া লিলজামিয়াতিল কওমিয়ার চেয়ারম্যান ছিলেন। প্রায় ৩৪ বছর দারুল উলুম মুঈনুল ইসলাম হাটহাজারীর মহাপরিচালকের দায়িত্ব পালন করেন। দেশের সর্বজন শ্রদ্ধেয় শীর্ষ আলেম হিসেবে বিবেচিত হতেন। কওমি মাদ্রাসার দাওরায়ে হাদিসের সনদের যে স্বীকৃতি সেটা তার হাত ধরেই আসে।

সারাদেশের আলেম-উলামার কাছে অবিসংবাদিত নেতা হিসেবে বিবেচিত আল্লামা শাহ আহমদ শফীর জন্ম চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার পাখিয়ারটিলা গ্রামে। তার বাবার নাম বরকম আলী, মা মোছাম্মাৎ মেহেরুন্নেছা বেগম। আহমদ শফী দুই ছেলে ও তিন মেয়ের জনক।

তিনি চট্টগ্রামের জিরি ও হাটহাজারী মাদ্রাসায় পড়াশোনার পর চলে যান ভারতের দারুল উলুম দেওবন্দে। সেখানে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করে দেশে ফিরেন। ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের অন্যতম নেতা মাওলানা হোসাইন আহমদ মাদানী ছিলেন তার উস্তাদ ও পীর। মাদানীর আধ্যাত্মিক উত্তরসূরিদের তালিকায়ও তার নাম রয়েছে। দেশের সবচেয়ে বড় কওমি মাদ্রাসা দারুল উলুম হাটহাজারীর ৩৪ বছরের মহাপরিচালক ছিলেন তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     এই বিভাগের আরও খবর