October 20, 2020, 11:21 am

ভোমরা বন্দরে চলছে শুল্ক ফাঁকির মহোৎসব

জামালউদ্দীন: করোনার প্রভাবে দীর্ঘদিন ভোমরা স্থলবন্দর বন্ধ ছিল। সম্প্রতি সচল হয়ে কর্মচাঞ্চলতা অনেকটাই ফিরে এসেছে। ভারতীয় পিয়াজের ঝাঝে যখন জ্বলছে বন্দর ঠিক সেই মুহুর্তে বন্দর কর্তৃপক্ষ, কাস্টমস কর্মকর্তা ও অসাধু আমদানী রপ্তানীকারকরা শুল্ক ফাঁকির মহোৎসবে মেতে উঠেছে। এমন অভিযোগের প্রেক্ষিতে ১৭ সেপ্টেম্বর দুপুর থেকে সরেজমিন অনুসন্ধানে শুল্ক ফাঁকির সত্যতা মেলে। ভারতীয় আনার বোঝাই একটি ট্রাক যার নং- ডই-৪১, উ-১৪৩৩। ট্রাকটিতে অতিরিক্ত ফল লোড দেখে সন্দেহ প্রকট হল। ওয়্যারহাউজে প্রবেশের অপেক্ষায় থাকাবস্থায় চালকের নিকট ফলবাহী ট্রাকটির ভারতীয় স্কেলের ওজন ও গেটপাশ দেখতে চাইলে চালক এ প্রতিবেদককে জানায়, আমদানীকারকরা প্রবেশের আগেই সেসকল কাগজপত্র নিয়ে নিয়েছে। একথার পর আর বাকী রইল না যে এ ট্রাকে অতিরিক্ত ফল আমদানী করেও কম ওজন দেখিয়ে শুল্ক ফাঁকি দেওয়া হবে। শুল্ক ফাঁকির এ মহোৎসব হাতে নাতে প্রমাণ করতে বন্দরের দায়িত্বে থাকা কাস্টমস কর্মকর্তার নিকট যেয়ে বিষয়টি জানানো হলে তিনি ওয়্যারহাউজের সুপারেন্টেনের দায়িত্বে থাকা আকবর আলীকে মুঠোফোনে সাংবাদিকদের তথ্য দেয়ার জন্য নির্দেশ দেন। কাস্টমস কর্মকর্তার নির্দেশক্রমে ওয়্যারহাউজে প্রবেশ করে পরিচয় নিশ্চিত করলে তিনি আমদানীকারক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের ডেকে ফল আমদানীর বৈধ কাগজপত্র দেখাতে বলে। আমদানীকারক প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীরা অনেকটাই কিংকর্তব্য বিমূঢ় হয়ে সাংবাদিকদের তথ্য নিশ্চিতের জন্য দিকবিদিক ছোটাছুটি করে। একপর্যায়ে বৈধ কাগজপত্র দেখানোর অপেক্ষায় ঘন্টা দুয়েক ফল বোঝাই ট্রাকের পাশে দাঁড় করিয়ে রেখে বিভিন্ন অযুহাতে সময়ক্ষেপন করতে থাকে। বাধ্য হয়ে তথ্য প্রাপ্তির আশায় আবারো ওয়্যারহাউজের সুপারেন্টেন্ট আকবর আলীর নিকটে গিয়ে তথ্য প্রাপ্তির সাত সতেরো জানালে তিনি নিজেই ঘটনাস্থলে আসেন। আকবর আলীর উপস্থিতি ও আরো ২ ইন্সপেক্টরের উপস্থিতিতে আমদানীকারক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি ও দালালরা উচ্চ গলায় বলতে থাকে কাগজপত্র সঠিক না থাকলে বন্দরে পন্যবাহী ট্রাক প্রবেশ করতে দিয়েছে ? এধরণের বাকবিতন্ডার একপর্যায়ে আবারো সুপারেন্টেনের অফিসে ডাক পড়ে। সেখানে গিয়ে বসার পর দীর্ঘসময়কে পুঁজি করে ইনভয়েস নামের ১টি কাগজ হাজির করে। যে ইনভয়েসের সাথে বাংলাদেশের বন্দর ওয়্যারহাউজ স্কেলে ওজন হওয়া ফলের গাড়িটির মিল দেখিয়ে দেয়া হয়। ঐ ইনভয়েজে উল্লেখ করা হয় রপ্তানীকারক মেসার্স এস.পি এন্টারপ্রাইজ ও আমদানীকারক মেসার্স আর.কে.পি এন্টারপ্রাইজ রাজা বাজার বগুরাকে আনারবাহী পন্যটি পাঠিয়েছে। ঐ ইনভয়েছে ৯৮৪ ক্যারেট আনারের ওজন নীট দেখানো হয়েছে ১৯ হাজার ৭শ ১৯ দশমিক ৩৬ কেজি। বাংলাদেশের স্কেলের ওজন ও ইনভয়েজের মিল রয়েছে। কিন্তু ভারতীয় ঘোজাডাঙ্গা স্থলবন্দরের ঐ আনারবাহী ট্রাকটির নিট ওজন ও গেটপাশ গায়েব করে দেয়া হয়েছে। এ বিষয়ে নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক আমদানী রপ্তানীকারক ও সাতক্ষীরা বিজিবি’র অধিনায়ক এ প্রতিবেদককে যে পন্যই আমদানী করা হোক না কেন তার ভারতীয় স্কেলের নিট ওজন ও গেটপাশ থাকা অত্যাবশক। কিন্তু ভোমরা স্থলবন্দরে তা থোড়ায় কেয়ারে। বন্দরে সার্বক্ষণিক শ্রমিকের দায়িত্বে থাকা প্রত্যক্ষদর্শীরা এ প্রতিবেদককে আরো জানিয়েছেন, করোনার মধ্যে বন্দর চালু হওয়ার পর সকাল থেকে দুপুর ৩টা নাগাদ অল্প স্বল্প পরিমাণ বিভিন্ন পন্যবাহী ট্রাক ওয়্যারহাউজে প্রবেশ করে। ৩টার পর থেকে ঝাল, গম, শুটকি মাছ, পাথর, হলুদসহ বিভিন্ন পন্যবাহী ট্রাক ওয়্যারহাউজে প্রবেশ করে। সন্ধ্যা নাগাদ এসমস্ত পন্যবাহী ট্রাককে স্কেলে উঠিয়ে ইচ্ছাখুশিমতো ওজন দেখিয়ে রাজস্ব আহরণ করছে। অভিযোগ রয়েছে প্রতি পন্যবাহী ট্রাক থেকে ৩ টন করে আমদানীকৃত পন্যের শুল্ক ফাঁকি দেয়া হচ্ছে বন্দর কর্তৃপক্ষ, কাস্টমস কর্মকর্তা ও আমদানী রপ্তানীকারকদের সংগঠনের নেতাদের যোগসাজসে। সাতক্ষীরা বিজিবি’র অধিনায়ক এ প্রতিবেদককে আরো জানিয়েছেন, ওয়্যারহাউজে বিজিবি সদস্যরা দায়িত্বকালীন সময়ে শুল্ক ফাঁকির বিষয়টি নজরে আসে। পরবর্তীতে চোরাই সিন্ডিকেটের হোতারা মিলে আন্দোলন সংগ্রামের মাধ্যমে বন্দর থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেয়া হয়েছে বিজিবি সদস্যদের দায়িত্ব।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     এই বিভাগের আরও খবর