January 17, 2021, 3:47 am

বারাত মনোহরপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় নির্মাণ কাজে ব্যাপক অনিয়ম

হাবিবুল্লাহ বাহার হাবিব সাতক্ষীরা: তালা উপজেলায় ইসলামকাটি ইউনিয়ন বারাত মনোহরপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় নির্মাণ কাজে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতি। শিডিউলের বহির্ভূত নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে ছাদ নির্মাণ কাজে স্থানীয়দের চাপের মুখে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান। অদক্ষ শ্রমিক দিয়ে ছাদের নির্মাণ কাজ করানো হচ্ছে। ফলে বিদ্যালয় নির্মাণ কাজের স্বচ্ছতা ও জবাব দিহিতা প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে। স্থানীয়দের চাপে বন্ধ হয়ে যায় গোপনে ছাদ ঢালাই কাজ। ছাদ ঢালাই এর সময় উপস্থিত ছিলেন না ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির কোনো সদস্য।কোন প্রকৌশলী ইঞ্জিনিয়ার কিংবা নিয়োগকৃত তাদের কোনো প্রতিনিধি। স্থানীয় কিছু সচেতন লোক জানান, তিন কক্ষ বিশিষ্ট একতলা পুরনো ভবনটির ছাদ নির্মাণের কাজ পায় এক ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান। কিন্তু এক কক্ষ বিশিষ্ট  ছাদ নির্মাণ করা হচ্ছে। তাদের প্রশ্ন তিন কক্ষবিশিষ্ট না একটি কক্ষের ছাদ নির্মাণ কাজ পায় ঠিকাদার। কত টাকা বাজেটে কাজটি পায় তাও আমরা জানি না।
জং ধরা আঁকাবাঁকা রড সোজা করে ছাদ নির্মাণ কাজ চলছে। রড সাজানো হয়েছে (১২”-১২”) ফাঁকা ফাঁকা করে। 


স্থানীয়রা আরো জানান, সিডিউল এক নাম্বার ইটের খোয়া সিমেন্ট, রড দিয়ে কাজ করার নিয়ম রয়েছে। কিন্তু ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান , প্রকৌশলী ইঞ্জিনিয়ার ও বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের যোগসাজসে নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে নির্মাণ কাজ করছে। নিম্নমানের ইটের খোয়া, সমদূরত্ব রড না দেয়া এবং পরিমাণে কম সিমেন্ট ও অতিরিক্ত বালি ব্যবহার করে নামমাত্র ছাদ নির্মাণ কাজ করছে। কাজের অনিয়ম হলেও দেখার কেউ নেই। তাদের দাবি তদন্তপূর্বক সিডিউল অনুসারে উপকরণ দিয়ে যেনো বিদ্যালয়ের ছাদ নির্মাণ ও অভ্যন্তরীণ কাজ করানো হয়। এ ব্যাপারে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছে এলাকাবাসী।
এব্যাপারে প্রকৌশলী ইঞ্জিনিয়ার আশিকুর রহমানের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আজ ছাদ ঢালাই হবে আমাকে জানানো হয়নি।  বিষয়টি আমি জানতে পেরে সরেজমিনে পরিদর্শন করে বেশ কিছু অনিয়মের চিত্র দেখতে পাই। এবং কাজ বন্ধ রাখতে নির্দেশ দেই।


প্রতিষ্ঠানের ঠিকাদার জি এম রাসেল বলেন,আমি পুরানো ভবনের  ৯০০ স্কয়ার বর্গফুট  বিশিষ্ট একটি কক্ষের রিপিয়ার সহ ছাদ নির্মাণের কাজ পা‌ই। তার বাজেট ৯ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা। নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে ছাদ নির্মাণের কাজ হচ্ছে  জানতে চাইলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান। সিডিউল দেখতে চাইলে তিনি বলেন আমার কাছে সিডিউল নেই।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অসীম কুমার দাশ বলেন , ছাদ ঢালাই এর বিষয়ে আমি কিছু জানিনা। আমি তিন চার দিন অসুস্থ ছিলাম। বিষয়টি আমি জানতে পেরে বিদ্যালয়ে যাই। নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে ছাদ নির্মাণের কথা স্বীকার করে তিনি বলেন, কাজের মান খারাপ ছিল তবে এখন ভালো করবে। আপনার পত্রিকায় নিউজটা না করলে ভালো হয় না।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন বিশিষ্ট ব্যক্তি বলেন, একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে ছাদ নির্মাণ কাজ করা হলে অল্প দিনে ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়বে। ছাদ ধসে যেকোনো ধরনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটতে পারে। তিনি নির্মাণাধীন কাজটি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের তদারকি করা উচিত বলে মনে করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     এই বিভাগের আরও খবর